স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা!

0
52
স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা!

জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ও গর্ভবতী না হয়েও মাতৃত্বকালীন ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বেশ কয়েকজন নারীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মীদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরেই তারা ভাতা উত্তোলন করে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন জানা যায়, উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের শিলংদহ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ধলী খাতুন, আব্দুস ছালামের স্ত্রী নাসিমা খাতুন, আব্দুল মজিদের স্ত্রী ফরিদা খাতুনসহ ওই ইউনিয়নের ১০ জন নারী দীর্ঘদিন ধরে বিধবা ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। অথচ তাদের স্বামী এখনো জীবিত।

অপরদিকে নওগাঁ ইউনিয়নের চৌপাকিয়া গ্রামের মন্টু ফকিরের স্ত্রী শাপালা খাতুনের ছেলের বয়স ১৩ বছর। অথচ তিনি ইউপি সদস্য রমিছা খাতুনের সঙ্গে অর্ধেক ভাগাভাগি করে মাতৃত্বকালীন ভাতা তুলে নিচ্ছেন র্দীঘদিন যাবত।

দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক জানান, শিলংদহ গ্রামের ওই নারীদের স্বামীরা সবাই জীবিত। তারা কৃষিকাজ করেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে কীভাবে সম্ভব বিধবা ভাতা উত্তোলন!

উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়ন সমাজকর্মী শিখা রানী জানান, ১০টির মতো বিধবা ভাতার কার্ড রয়েছে। তাদের স্বামী জীবিত থাকার সত্ত্বেও মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা নিচ্ছেন। আর এই বইগুলো দেওয়ার সময় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস নিজে জোরপূর্বক নিয়ে যান।

নওগাঁ ইউনিয়নের নারী ইউপি সদস্য রমিছা খাতুন জানান, এমন ২-৪টা ভাতার বই না করলে আমরা চলবো কীভাবে? আমি মাত্র দুটি মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড ভুয়া করেছি। অনেকেই তো করে থাকে। এর মধ্যে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসে কিছু দিতে হয়।

তাড়াশ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কেএম মনিরুজ্জামান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা আমাদের অফিসে যেসব তথ্য দেন, আমরা সেটির ভিত্তিতে কাজ করি। তবে এখন থেকে অনলাইন হচ্ছে। এমনিতেই সব বাতিল হয়ে যাবে। যেগুলো আমাদের নজরে আসছে, সে বইগুলো বাতিল করা হচ্ছে।

তাড়াশ উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. মেজবাউল করিম বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিধবা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা নেওয়া গুরুতর অপরাধ। যারা অবৈধভাবে ভাতা নিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here