গাজীপুরে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ অভিযুক্তকে বাকিতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা জুতাপেটায় রফাদফা

0
133
গাজীপুরে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ অভিযুক্তকে বাকিতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা জুতাপেটায় রফাদফা

অভিযুক্তকে ২০ জুতাপেটা ও বাকিতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানায় ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাতাব্বরদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ৯ বছর বয়সের শিশুটি একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকায় গত ১২ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার দু’দিন পর স্থানীয় মাতাব্বররা অভিযুক্তকে ২০টি জুতার বারি ও বাকিতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নামে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান।

ধর্ষণের শিকার শিশুর পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, শিশুটির পরিবার ডেগের চালার হাসানের বাড়িতে ভাড়া থাকে। একই বাড়িতে পোশাক কারখানার চাকরিপ্রার্থীদের ট্রেনিং সেন্টার। সেন্টারের মালিক জামাল হোসেন গত ১২ এপ্রিল বিকেলে ওই মেয়েটিকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে সেন্টারে নিয়ে যৌন নির্যাতন চালান এবং ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ৩০০ টাকা ও কিছু চকলেট ধরিয়ে দিয়ে মেয়েটিকে চলে যেতে বলেন। শিশুটির বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মা একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। শিশুটি বাসায় গিয়ে তার মাকে বিষয়টি বলে দিলে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। অবশেষে বাড়ির মালিক হাসানের মধ্যস্থতায় এলাকায় বিচার সালিশ বসে। সালিশে অভিযুক্ত জামালকে ২০টি জুতাপেটা ও বাকিতে ৫০ হাজার টাকার জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা আদায়ের জন্য জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ধর্ষকের স্বাক্ষরও নেয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার শিশুটির মা জানান, তারা জরিমানার কোনো টাকা পাননি, সালিশের স্ট্যাম্পটিও মাতাব্বররা রেখে দিয়েছেন। মামলা করলে অনেক টাকা লাগবে, মেয়েটিকে দুই দিন থানায় ও হাসপাতালে রেখে দিবে, আরো অনেক জামেলা হবে এসব বলে মাতাব্বররা তাকে ভয়ভীতি দেখান। তাই ভয়ে তিনি থানাপুলিশ করেননি।
সালিশে উপস্থিত স্থানীয় মাতাব্বর জাকির তালুকদার বলেন, কোন ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি, ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল। তাহলে জুতাপেটা ও জরিমানা করা হলো কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিচারে আমি একা ছিলাম না, আরো অনেকে ছিলেন। সবাই ২ লাখ টাকা জরিমানার কথা বলেছিলেন। যেহেতু ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে তাই আমিই ৫০ হাজার টাকা জরিমার প্রস্তাব করি।
অপর সালিশকারক আলমগীর হোসেন বলেন, মেয়েটি বয়সে ছোট হলেও স্বাস্থ্য ভালো। তাকে ধর্ষণ করতে পারেনি, ওপরের জামা পর্যন্ত খুলেছিলো মাত্র। আর আমি একা এই বিচার করিনি, সবাই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে গাছা থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। কেউ থানায় অভিযোগ নিয়ে আসেননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here